মাথাব্যথা বা শরীরের যেকোনো ব্যথা হলেই অনেকেই দ্রুত আরাম পেতে পেইন কিলারের আশ্রয় নেন। তবে এই অভ্যাস যে কতটা বিপজ্জনক হতে পারে, তা অনেকেই জানেন না।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিয়মিত বা অতিরিক্ত পেইন কিলার গ্রহণ শরীরের বিভিন্ন অঙ্গের জন্য মারাত্মক ক্ষতির কারণ হতে পারে।
দীর্ঘদিন ব্যথানাশক ওষুধ খেলে লিভার ও কিডনির গুরুতর সমস্যা দেখা দিতে পারে। এমনকি কিছু ক্ষেত্রে কিডনি বিকল হওয়া বা গর্ভপাতের মতো ঝুঁকিও তৈরি হয়। বিশেষ করে ডাইক্লোফেনাক, অ্যাসপিরিন, আইবুপ্রোফেন বা ন্যাপ্রোক্সেন জাতীয় ওষুধ অতিরিক্ত গ্রহণ করলে পেটে ব্যথা, গ্যাস্ট্রিক, রক্তপাতসহ নানা জটিলতা দেখা দিতে পারে।
চিকিৎসকদের মতে, প্যারাসিটামল অতিরিক্ত মাত্রায় খেলে লিভারের মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে। দৈনিক নির্ধারিত মাত্রার বেশি গ্রহণ করলে পরিস্থিতি আরও গুরুতর হয়ে ওঠে। তাই জ্বর বা ব্যথা যাই হোক না কেন, চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া এই ওষুধ খাওয়া উচিত নয়।
এছাড়া যারা উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস বা কিডনি সমস্যায় ভুগছেন, তাদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি আরও বেশি। একইভাবে ডিপ্রেশনের ওষুধ গ্রহণকারীদের ক্ষেত্রেও পেইন কিলার ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে পারে এবং অন্যান্য ওষুধের কার্যকারিতা কমিয়ে দিতে পারে।
গবেষণায় আরও দেখা গেছে, কিছু ব্যথানাশক ওষুধ রক্ত পাতলা করে এবং দীর্ঘদিন ব্যবহারে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। বিশেষ করে গর্ভাবস্থার শুরুতে এসব ওষুধ ব্যবহার করলে গর্ভপাতের সম্ভাবনাও বৃদ্ধি পায়।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, সামান্য ব্যথা হলেই নিজে নিজে পেইন কিলার না খেয়ে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়াই নিরাপদ। কারণ তাৎক্ষণিক আরাম দিলেও এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দীর্ঘমেয়াদে ভয়াবহ হতে পারে।
কাজেই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া যেকোনো ওষুধ খাওয়া বাদ দিন। ব্যথা নানা কারণে হতে পারে। একেক ধরনের ব্যথার একেক রকম চিকিৎসা। সব ব্যথা নিরাময়ে ওষুধেরও প্রয়োজন নেই।

