ওমেগা-৩ সাপ্লিমেন্ট থেকে সেরা ফলাফল পেতে হলে এটি খাওয়ার সঠিক সময় এবং নিয়ম জানা ভীষণ জরুরি। ভুল সময়ে খেলে এটি শরীরে ঠিকমতো শোষিত হয় না। ওমেগা-৩ একটি ফ্যাট বা চর্বিযুক্ত উপাদান। এটি খালি পেটে খেলে শরীরে খুব একটা কাজে লাগে না। তাই দিনের যে বেলা আপনি সবচেয়ে বেশি ফ্যাট বা চর্বিযুক্ত খাবার খান, যেমন— ডিম, দুধ, বাদাম বা তেলের রান্না, সেই খাবারের ঠিক পরেই সাপ্লিমেন্টটি গ্রহণ করা উচিত। এতে শোষণ ক্ষমতা অনেক বেড়ে যায়।
আর খালি পেটে খেলে শরীরের শোষণ ক্ষমতা অনেক কমে যায়। এটি একটি ফ্যাটি অ্যাসিড, তাই এটি এমন খাবারের সঙ্গে খাওয়া উচিত, যাতে হেলদি ফ্যাট আছে। ফ্যাট ওমেগা-৩ কে রক্তে মিশতে সাহায্য করে।
ওমেগা-৩ দিনের যে কোনো সময় খাওয়া যায়। তবে অনেকের ক্ষেত্রে রাতে খেলে ভালো ঘুম হতে সাহায্য করে। আবার সকালে খেলে সারাদিন এনার্জি পাওয়া যায়। শরীরে সঠিকভাবে পুষ্টি পৌঁছাতে গেলে ওষুধ খেতে হবে সঠিক নিয়মে। ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড হার্টের স্বাস্থ্য ভালো রাখে। মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা উন্নত করে। জয়েন্টের ব্যথা কমাতেও ম্যাজিকের মতো কাজ করে। তাই মাঝেমধ্যে নিজের ইচ্ছেমতো দোকান থেকে কিনে এই সাপ্লিমেন্ট খেয়ে থাকেন।
এ বিষয়ে পুষ্টিবিদরা বলছেন, ওমেগা-৩ এর মতো সাপ্লিমেন্টও খুশিমতো খাওয়া যায় না। কার জন্য কতটুকু পরিমাণ ওমেগা-৩ প্রয়োজন, তা সঠিকভাবে নির্ধারণ করতে হবে। ওমেগা-৩ একটি ‘ফ্যাট-সলিউবল’ উপাদান। এটি রক্তের সঙ্গে দ্রুত মিশতে চর্বির সাহায্য প্রয়োজন। তাই কেউ যদি একদম খালি পেটে এই সাপ্লিমেন্ট খান, তবে শরীর ঠিকমতো শোষণ করতে পারে না। তাই ভালো ফল পেতে হলে ভারি খাবার বা স্বাস্থ্যকর ফ্যাট আছে, এমন খাবারের সঙ্গে ওই সাপ্লিমেন্ট খেতে হবে।
যদিও ওমেগা-৩ খাওয়ার নির্দিষ্ট কোনো সময় নেই। তবে বিশেষজ্ঞরা বলেন, রাতের খাবার খাওয়ার পর ওমেগা-৩ খেতে হয়। যাতে তা শরীর দ্রুত শোষণ করতে পারে। কারণ সামুদ্রিক মাছ, ফ্ল্যাক্স সিড এবং আখরোটের মতো প্রাকৃতিক উৎস থেকে ওমেগা-৩ মেলে। তাই প্রথমে সাপ্লিমেন্ট না খেয়ে, প্রাকৃতিক খাবারে ভরসা রাখাই ভালো।

