গ্রীষ্মের তীব্র দাবদাহে স্বস্তি পেতে অনেকেই ঠান্ডা পানীয়ের দিকে ঝুঁকছেন। তবে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, গরমের সময়ে জনপ্রিয় কিছু পানীয় শরীরের উপকারের বদলে ক্ষতির কারণ হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, গরমে কোমল পানীয় বা সফট ড্রিংকস পান করা থেকে বিরত থাকা উচিত। ফিজি বা গ্যাসযুক্ত এসব পানীয় ডায়াবেটিস, হৃদরোগ এবং দাঁতের সমস্যার ঝুঁকি বাড়ায়। পাশাপাশি শরীরে পানিশূন্যতাও তৈরি করতে পারে।
আমেরিকান ফিজিওলজিক্যাল সোসাইটির (এপিএস) এক গবেষণায় দেখা গেছে, শরীরের পানিশূন্যতা দূর করতে কার্বোনেটেড পানীয় গ্রহণ করলে তা উল্টো ডিহাইড্রেশন বাড়াতে পারে এবং কিডনি ক্ষতির ঝুঁকিও বাড়ায়।
গরমের সময় অ্যালকোহল এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। কারণ অ্যালকোহল শরীরে প্রস্রাবের পরিমাণ বাড়িয়ে দেয়, ফলে দ্রুত পানিশূন্যতা তৈরি হতে পারে।
এছাড়া অতিরিক্ত চা ও কফি পান না করারও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাইরে উচ্চ তাপমাত্রার কারণে শরীরের তাপমাত্রা এমনিতেই বেড়ে যায়। এর মধ্যে গরম পানীয় পান করলে অস্বস্তি, পেট ফাঁপা এবং হজমের সমস্যাও বাড়তে পারে।
এনার্জি ড্রিংকসকেও গরমের সময় ঝুঁকিপূর্ণ পানীয় হিসেবে উল্লেখ করেছেন চিকিৎসকরা। এসব পানীয়ে অতিরিক্ত ক্যাফেইন ও মিষ্টিজাতীয় উপাদান থাকায় অতিরিক্ত সেবনে অনিয়মিত হৃদস্পন্দন, উচ্চ রক্তচাপ, উদ্বেগ, খিঁচুনি এবং মেজাজের পরিবর্তনের মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। পাশাপাশি সাময়িক শক্তি বৃদ্ধির পর রক্তে শর্করার মাত্রা হঠাৎ কমেও যেতে পারে।
লেবুর শরবত গরমে অনেকের কাছেই আরামদায়ক মনে হলেও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাজারে পাওয়া অনেক লেমন ড্রিংকে অতিরিক্ত চিনি ও কৃত্রিম ফ্লেভার ব্যবহার করা হয়, যেখানে প্রকৃত লেবুর পরিমাণ খুবই কম। এসব পানীয় রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়াতেও ভূমিকা রাখতে পারে।
ফলের জুস নিয়েও সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, ফল বা সবজির জুসে কিছু পুষ্টিগুণ থাকলেও প্রক্রিয়াজাত করার সময় উপকারী আঁশ বা ফাইবারের বড় অংশ নষ্ট হয়ে যায়। ফলে চিনি দ্রুত রক্তে মিশে যায়। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, প্যাকেটজাত জুসের বদলে তাজা আস্ত ফল খাওয়াই বেশি স্বাস্থ্যকর।
সূত্র- সামা টিভি

