৩০ এপ্রি ২০২৬, বৃহঃ

পরমাণু চুক্তি না হলে নৌ-অবরোধ বহাল থাকবে: ট্রাম্প

ইরানের নতুন প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সেই সঙ্গে সাফ জানিয়েছেন, পরমাণু চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত নৌ-অবরোধ বহাল থাকবে।
এই মুহূর্তে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ‘অনির্দিষ্টকালের জন্য’ যুদ্ধবিরতি চলছে। তবে হরমুজ প্রণালিতে ইরানের কঠোর নজরদারির বিপরীতে মার্কিন নৌ-অবরোধ ঘিরে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে।

এর মধ্যেই গত সোমবার (২৭ এপ্রিল) হোয়াইট হাউস নিশ্চিত করে যে, ট্রাম্প ও তার জাতীয় নিরাপত্তা দল যুদ্ধের অবসানের জন্য ইরানের পক্ষ থেকে একটি নতুন প্রস্তাব পেয়েছে। যদিও কোনো পক্ষই প্রস্তাবটির বিস্তারিত প্রকাশ করেনি।
তবে গণমাধ্যমের প্রতিবেদন থেকে জানা যায় যে, এই প্রস্তাবে যুদ্ধাবসানের বিনিময়ে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেয়ার কথা বলা হয়েছে এবং তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা পরবর্তী কোনো তারিখে অনুষ্ঠিত হবে। ট্রাম্প এই প্রস্তাবে ‘অসন্তুষ্ট’ বলে জানান।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে দুই মাস ধরে চলা সংঘাতের অবসানে ইরানের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। সেই সঙ্গে তিনি আবারও পুনর্ব্যক্ত করেছেন যে, ইরান তার পারমাণবিক কর্মসূচি ত্যাগ করতে এবং ওয়াশিংটনের উদ্বেগের সমাধান করতে রাজি না হওয়া পর্যন্ত কোনো শান্তি চুক্তি হবে না। ততক্ষণ পর্যন্ত ইরানের ওপর নৌ-অবরোধও অব্যাহত থাকবে।

গত বুধবার (২৯ এপ্রিল) অ্যাক্সিওসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রিপাবলিকান নেতা আরও দাবি করেন যে, ইরান অবরোধ তুলে নেওয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি চুক্তি চায়, যা তার মতে ‘বোমা হামলার চেয়েও বেশি কার্যকর’।

ট্রাম্প আরও বলেন, মার্কিন অবরোধের কারণে মধ্যপ্রাচ্যের এই দেশটি তার অপরিশোধিত তেল রফতানি করতে না পারায় তাদের তেল সংরক্ষণাগার এবং পাইপলাইনগুলো ‘বিস্ফোরণের দ্বারপ্রান্তে’ পৌঁছে গেছে।

তিনি বলেন, ‘বোমাবর্ষণের চেয়ে অবরোধটা কিছুটা বেশি কার্যকর। তাদের দমবন্ধ হয়ে যাচ্ছে। তাদের জন্য পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে চলেছে। ওরা পারমাণবিক অস্ত্র রাখতে পারবে না।’
ট্রাম্প আরও বলেন, ‘তারা এখন মীমাংসা করতে চায়। তারা চায় না আমি অবরোধটা অব্যাহত রাখি। তবে আমি অবরোধ তুলতে চাই না, কারণ আমি চাই না ওদের হাতে পারমাণবিক অস্ত্র থাকুক।’ ইরানের সঙ্গে ফোনে আলোচনা হচ্ছে বলেও দাবি করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর এখন হার মেনে নেওয়ার এবং ‘আমরা আত্মসমর্পণ করছি’ বলার সময় এসেছে। তার কথায়, ‘প্রশ্ন হলো, তারা যথেষ্ট কঠোর হবে কি না। এই মুহূর্তে কোনো চুক্তি হবে না, যদি না তারা পারমাণবিক অস্ত্র না থাকার বিষয়ে একমত হয়।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *