১৯ মে ২০২৬, মঙ্গল

মহাকাশে রহস্যময় নীল আলোর উৎসে থাকতে পারে কৃষ্ণগহ্বর–তারার সংঘর্ষ

মহাকাশের গভীরে দেখা যাওয়া রহস্যময় নীল আলোর ঝলকের পেছনে নতুন ব্যাখ্যা দিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। প্রায় এক দশক ধরে এই অদ্ভুত আলোর উৎস বোঝার চেষ্টা চলছে। নতুন গবেষণায় বলা হয়েছে, এই বিরল ঘটনা সম্ভবত কৃষ্ণগহ্বর বা নিউট্রন তারার সঙ্গে একটি বিশেষ ধরনের নক্ষত্রের সহিংস সংঘর্ষের ফল। এই ঘটনাকে বলা হয় ‘লুমিনাস ফাস্ট ব্লু অপটিক্যাল ট্রানজিয়েন্ট’ (এলএফবিওটি)।

এখন পর্যন্ত মাত্র ১৪টি এমন ঘটনা শনাক্ত হয়েছে যা মহাকাশে সবচেয়ে বিরল বিস্ফোরণগুলোর একটি। এগুলো সাধারণ মহাজাগতিক বিস্ফোরণের চেয়ে অনেক দ্রুত ঘটে এবং প্রায় ১০০ গুণ বেশি উজ্জ্বল হতে পারে। কয়েক দিনের মধ্যেই এগুলো সর্বোচ্চ উজ্জ্বলতায় পৌঁছে দ্রুত মিলিয়ে যায়, যেখানে অন্য বিস্ফোরণ টিকে থাকে সপ্তাহ বা মাস ধরে।

হার্ভার্ড ও স্মিথসোনিয়ান ইনস্টিটিউশনের গবেষক ড. আনিয়া নিউগেন্ট বলেন, এই আলোগুলো সবসময় নীল থাকে যা বোঝায় এগুলো অত্যন্ত উচ্চ তাপমাত্রায় তৈরি হয়।

গবেষকরা যেসব ছায়াপথে এই ঘটনা ঘটেছে, সেগুলোর গঠন, নক্ষত্র তৈরির হার ও ধাতব উপাদান বিশ্লেষণ করেছেন। তাদের মতে, ‘উলফ-রায়েট’ নামে পরিচিত হাইড্রোজেনবিহীন বিশাল নক্ষত্রের সঙ্গে কৃষ্ণগহ্বর বা নিউট্রন তারার সংঘর্ষেই এই বিস্ফোরণ হতে পারে।

এই প্রক্রিয়ায় প্রথমে একটি বিশাল নক্ষত্র ধসে সুপারনোভা বিস্ফোরণ ঘটায় এবং কৃষ্ণগহ্বর বা নিউট্রন তারায় পরিণত হয়। এরপর দীর্ঘ সময় ধরে তা সঙ্গী নক্ষত্রের ভেতরে ঢুকে বিপুল মহাকর্ষীয় শক্তি মুক্ত করে। এর ফলে তীব্র গ্যাসপ্রবাহ ও জেট সৃষ্টি হয়, যা আশপাশের পদার্থে আঘাত করে অত্যন্ত উজ্জ্বল ও উত্তপ্ত নীল আলো তৈরি করে।

বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, এটি মহাবিশ্বের রহস্যময় ঘটনাগুলোর একটি সম্ভাব্য ব্যাখ্যা। তবে এই ধারণা নিশ্চিত করতে আরও পর্যবেক্ষণ ও গবেষণা প্রয়োজন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *