১৭ মে ২০২৬, রবি

হারিয়ে যাচ্ছে প্রাকৃতিক ইনসুলিন তেলাকুচা

একসময় দেশের বনে-জঙ্গল, বসতবাড়ির আশেপাশেই অযত্নে-অবহেলায় বেড়ে উঠতো তেলাকুচা। তবে আগের মতো উপকারী এই লতাজাতীয় উদ্ভিদটি আর দেখা যায় না।

প্রাকৃতিক ইনসুলিনসহ বহুগুণী ওষুধি এই উদ্ভিদ এখন বিলুপ্ত প্রজাতিতে পরিণত হতে শুরু করেছে। বৃক্ষপ্রেমীরা বলছেন, তেলাকুচাসহ ওষুধি গুণসম্পন্ন হারিয়ে যেতে বসা গাছগুলো সংরক্ষণে সংশ্লিষ্টদের এগিয়ে আসা উচিত।

শনিবার সকালে রংপুর মহানগরীর পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে যাওয়ার রাস্তায় একটি বসতবাড়ির গাছের ডালে ঝুলে থাকতে দেখা মিলল তেলাকুচার। সূর্য পূর্বাকাশে উদিত হলে তার কিরণে এক মোহময় পরিবেশ এনে দেয় তেলাকুচা। দূর থেকে দেখে মনে হয়, লাল-সবুজে জড়ানো বাংলাদেশের ছোট ছোট পতাকা যেন শিল্পীর কল্পনায় কেউ এঁকে রেখেছে।

পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের এই সড়কটি এক সময় হেরিংবন রোড নামে পরিচিত ছিল। প্রতিদিন সূর্য ওঠার সঙ্গে সঙ্গে এই রাস্তায় দেখা যায়, সমাজের নানা পেশার অবসরপ্রাপ্ত এবং কর্মরত অনেককে হেঁটে বেড়াতে। চলার পথে অনেকেই মুগ্ধ হন তেলাকুচার রূপ দেখে।

ফুলটির বিষয়ে বাংলা একাডেমির সহপরিচালক এবং বেগম রোকেয়া স্মৃতিকেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কৃষিবিদ আবিদ করিম মুন্না জানান, লতানো ও বহুবর্ষজীবী ভেষজ উদ্ভিদ তেলাকুচা। যা মূলত শাক এবং সবজি হিসেবে খাওয়া হয়। পাতা, কচি ডগা ও কাঁচা ফল সবজি হিসেবে অত্যন্ত পুষ্টিকর। ডায়াবেটিস, জন্ডিস, সর্দি-কাশি ও ত্বকের সমস্যা চিকিৎসায় কবিরাজেরা বহুযুগ ধরে ব্যবহার করে আসছেন।

পুষ্টিবিদের তথ্য অনুযায়ী, এতে প্রচুর বিটা-ক্যারোটিন, অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ও অ্যান্টিহিস্টামিন উপাদান রয়েছে। যেটি ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে প্রাকৃতিক ইনসুলিন হিসেবে কাজ করে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *