ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানকে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ‘শেষ এবং সর্বোত্তম সুযোগ’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার দাবি, পারমাণবিক অস্ত্র ও দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রসহ মধ্যপ্রাচ্য ও আমেরিকার জন্য এক ‘অসহনীয় হুমকি’ হয়ে উঠেছিল তেহরান। এই হুমকি নির্মূল করতেই অভিযান শুরু করা হয়েছে।
হোয়াইট হাউসে দেওয়া বক্তব্যে ট্রাম্প জানান, ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ নামের এই অভিযানের উদ্দেশ্য স্পষ্ট। এর মধ্যে রয়েছে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ধ্বংস করা, তাদের নৌবাহিনী সম্পূর্ণভাবে গুঁড়িয়ে দেওয়া এবং যেন তারা কখনও পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে না পারে তা নিশ্চিত করা।
তার অভিযোগ, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সতর্কবার্তা উপেক্ষা করেছে এবং পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের প্রচেষ্টা বন্ধ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। ট্রাম্প বলেন, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি মূলত পারমাণবিক অস্ত্র উন্নয়নের সুরক্ষা বলয় হিসেবে পরিকল্পিত ছিল।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ভাষায়, ‘পারমাণবিক অস্ত্র ও দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রে সজ্জিত ইরানি শাসনব্যবস্থা মধ্যপ্রাচ্য ও আমেরিকান জনগণের জন্য ‘অসহনীয় হুমকি’ হয়ে দাঁড়াত। এই অসুস্থ ও অশুভ শাসনব্যবস্থার তৈরি করা অসহনীয় হুমকি নির্মূল করার এটাই আমাদের শেষ এবং সর্বোত্তম সুযোগ।’
ট্রাম্প অভিযোগ করেন, ইরান তাদের সীমান্তের বাইরে ‘সন্ত্রাসী বাহিনী’কে অস্ত্র সরবরাহ, অর্থায়ন ও নির্দেশনা দিয়ে আসছে—যা আর চলতে দেওয়া যায় না। তার দাবি, এই কার্যক্রম বন্ধ করাও অভিযানের অন্যতম লক্ষ্য।
তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে ইরানে ‘বৃহৎ পরিসরের সামরিক অভিযান’ চালিয়ে যাচ্ছে এবং সময়সূচির তুলনায় তারা ‘উল্লেখযোগ্যভাবে এগিয়ে’ রয়েছে। শুরুতে চার থেকে পাঁচ সপ্তাহের সময় ধরা হলেও প্রয়োজনে যুক্তরাষ্ট্রের আরও দীর্ঘ সময় অভিযান চালানোর সক্ষমতা রয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
বক্তব্যের শুরুতে যুদ্ধে নিহত চার মার্কিন সেনাসদস্যের প্রতি শ্রদ্ধা জানান ট্রাম্প। তিনি বলেন, তাদের স্মৃতির প্রতি সম্মান জানিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ‘দৃঢ় ও আপসহীন সংকল্প’ নিয়ে এই মিশন চালিয়ে যাবে, যাতে আমেরিকান জনগণের ওপর আর কোনো হুমকি না থাকে।

