ঝিনাইগাতীতে সীমান্তে হাতি তাড়ানো সোলার ফেন্সিং কাজে আসছে না গ্রামবাসীদের


জাতীয় কণ্ঠ ডেস্ক প্রকাশের সময় : নভেম্বর ২০, ২০১৯, ১০:২১ অপরাহ্ন /
ঝিনাইগাতীতে সীমান্তে হাতি তাড়ানো সোলার ফেন্সিং কাজে আসছে না গ্রামবাসীদের
নিউজটি শেয়ার করুন

শেরপুর প্রতিনিধি:শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে হাতি তারানো সোলার ফেন্সিং কোনই কাজে আসছে না গ্রামবাসীদের। ফলে থেকেই গেল গ্রামবাসীদের দুঃখ আর দূর্দশা। গত প্রায় ২ যুগ ধরে সীমান্তবর্তী পাহাড়ি গ্রামগুলোতে শুরু হয় বন্যহাতির তান্ডব। উপর্যপুরি বন্যহাতির তান্ডবে জান-মাল ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি সাধিত হয়। পাহাড়ি গ্রামবাসীরা নিদ্রাহীন রাত কাটাতে শুরু করে। বন্যহাতির তান্ডবে বিপর্যস্ত হয়ে পরে পাহাড়ী গ্রামবাসীরা। বন্যহাতির কবল থেকে জান-মাল রক্ষার্থে গ্রামবাসীদের পক্ষ থেকে সরকারে কাছে এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগসহ বিভিন্ন দাবী-দাওয়া তোলে ধরা হয়। এ দাবীর প্রেক্ষিতে সংসদ সদস্য একেএম ফজলুল হক চান ২০১৬ সালের আগস্ট মাসে উপজেলার সীমান্তে হাতি কবলিত পাহাড়ি গ্রামগুলোতে সোলার ফেন্সিং (বৈদ্যুতিক তারের বেড়া) স্থাপন কাজ হতে নেন। যা দিয়ে হাতি আক্রান্ত হবে। কিন্তু মারা যাবে না। উপজেলার গারো পাহাড়ের ১৩কিলোমিটার এলাকাজুড়ে এ সোলার ফেন্সিং স্থাপিত হয়। এতে সরকারের ব্যয় হয় প্রায় ১কোটি টাকা। বন-বিভাগের বন্য প্রানী সংরক্ষণ অধিদপ্তরের তদারকিতে এ কাজটি সম্পন্ন করা হয়। গুরুচরণ দুধনই ৪.৫ কিলোমিটার, ছোট গজনী ৩ কিলোমিটার, বড় গজনী-হালচাটি ৩.৫ কিলোমিটার এবং নালিতাবাড়ীর মায়াগাছীতে ২কিলোমিটার এলাকার জুড়ে এ সোলার ফেন্সিং স্থাপন করা হয়। প্রাথমিকভাবে পরীক্ষামূলক এ সোলার ফেন্সিংএর কাজটি করা হয়। কাংশা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জহুরুল হক, ইউপি সদস্য হযরত আলীসহ গ্রামবাসীরা জানান, ঠিকাদার নিম্নমানের কাজ করায় ও তা সংরক্ষণের অভাবে স্থাপনকৃত সোলার ফেন্সিং কোনই কাজে আসছে না গ্রামবাসীদের। এতে গ্রামবাসীদের জান-মাল রক্ষা সরকারের উদ্যোগ ব্যাহত হচ্ছে। অপর দিকে গচ্ছা দিতে হলো সরকারের কোটি টাকা। বর্তামানে সোলার ফেন্সিং অকেজো হয়ে পরে আছে। এছাড়া সোলার ফেন্সিং এর দু’পাশে বায়ু ফেন্সিং (বৃক্ষরোপন)’র অজুহাতে সরকারী লাখ লাখ টাকা হরিলুটের অভিযোগ রয়েছে। কাগজে কলমে বৃক্ষরোপন দেখানো হলেও বাস্তবে সোলার ফেন্সিংএর পাশে কোনো বৃক্ষরোপন করা হয়নি। এ অভিযোগ গারো পাহাড় বাসীদের। শেরপুরের বন্য প্রাণী বিভাগের বিট কর্মকর্তা হাবিবুল্লাহ বলেন, গ্রামবাসীদের অসচেনতা গরু-ছাগলের পদচারণায় গোপনকৃত বৃক্ষ ধ্বংস হয়ে গেছে। তিনি আরো বলেন, সোলার ফেন্সিং সচল করতে বন বিভাগের পক্ষ থেকে উর্ধŸতণ কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। সংসদ সদস্য একেএম ফজলুল হক চান বলেন, অকেজো সোলার সেন্সিং সচল ও বাকী এলাকাগুলোতে সোলার ফেন্সিং’র আওতায় আনতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পত্র প্রেরণ করা হয়েছে।

আজকালের কন্ঠ / আরএম সেলিম শাহী /মিজান