১৫ মে ২০২৬, শুক্র

সাদা-কালো রঙের ষাঁড়টি এমনিতে বেশ শান্ত স্বভাবের। তবে নতুন কোনো মানুষ দেখলে একটু ক্ষেপে যাওয়ার বদভ্যাসও আছে তার। খামারি বলছেন, শখ করে ষাঁড়টির নাম রাখা হয়েছে ‘বাহুবলী’।
নড়াইলের কালিয়া উপজেলার খড়রিয়া মিনাপাড়ার ‘রাহুল-রিয়া অ্যাগ্রো ফার্ম’ নামের একটি খামারে এ গরুর দেখা মিলেছে। প্রায় ২৮ মণ ওজন, ১৪ ফুট দৈর্ঘ্য এবং ৬ ফুট উচ্চতা বাহুবলীর। প্রতিদিন গোয়ালঘর থেকে এ গরু বাইরে নিতে অন্তত ১০ থেকে ১২ জনের সহায়তা লাগে। এজন্য আগে থেকেই মানুষ জোগাড় করে রাখতে হয়।

খামারের মালিক রিপন মিয়া জানান, আসন্ন ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে ফ্রিজিয়ান শাহিওয়াল জাতের ষাঁড়টিকে বিক্রির উপযোগী করে প্রস্তুত করা হয়েছে।
কালিয়া উপজেলার খড়রিয়া মিনাপাড়ায় গিয়ে দেখা যায়, রিপনের বাড়ির উঠানেই ছোট বড় তিনটি গোয়ালঘর। এতে শুয়ে, বসে ও দাঁড়িয়ে আছে ২২টি ষাঁড়। এর মধ্যে ২১টি শাহিওয়াল ও একটি ফ্রিজিয়ান শাহিওয়াল। সবগুলোকেই কুরবানির জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে, দেখতেও বেশ হৃষ্টপুষ্ট। তবে আলাদা করে নজর কাড়ছে ‘বাহুবলী’। ওই সময় বিদ্যুৎ না থাকায় গরমে ষাঁড়টিকে শান্ত রাখতে বালতি ভরে ভরে পানি এনে গোসল করাচ্ছিলেন রিপনের স্ত্রী রোজিনা পারভিন।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, খামারটির যাত্রা শুরু হয় ২০১৮ সালে। রিপনের দুই সন্তানের নামানুসারে এর নাম রাখা হয় ‘রাহুল-রিয়া অ্যাগ্রো ফার্ম’।

প্রায় আড়াই বছর আগে চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার হাট থেকে বাহুবলীকে কিনেছিলেন রিপন। তখন তার ওজন ছিল ২০০ কেজি। স্নেহ, যত্ন আর পুষ্টিকর খাবার পেয়ে ধীরে ধীরে বেড়ে উঠেছে ষাঁড়টি। বিশাল দেহের কারণে ভালোবেসে নাম রাখা হয় ‘বাহুবলী’। প্রতিদিন ষাঁড়টির পেছনে ব্যয় হয় ৮০০ থেকে ৯০০ টাকা।

রিপন বলেন, বর্তমানে বাহুবলীর দাঁত দুটি। আর ওজন প্রায় ১ হাজার ১০০ কেজি। ১০ লাখ টাকা হলে গরুটি বিক্রি করব। আমি চাই, নির্ধারিত বাজারমূল্যে বাহুবলীকে নড়াইল-১ আসনের এমপি জাহাঙ্গীর বিশ্বাস কিনুক। এ ব্যাপারে তার সঙ্গে কথা বলব। তিনি কিনলে খুশি হব।

ষাঁড়টিকে দেখতে প্রায় প্রতিদিনই খামারে ভিড় করেন বিভিন্ন এলাকার মানুষ। কেউ মোবাইলে ছবি তোলেন, কেউ ভিডিও করেন, আবার কেউ দাঁড়িয়ে অবাক দৃষ্টিতে দেখেন বাহুবলীর বিশাল দেহ।

ষাঁড়টি দেখতে আসেন নড়াইল শহরের মহিষখোলা এলাকার জাহাঙ্গীর মিয়া। তিনি বলেন, আমি জীবনে অনেক গরু দেখেছি, পালনও করেছি। তবে এতবড় গরু আগে কখনো দেখিনি। গরুটি দেখতে যেমন সুন্দর, ঠিক তেমনই বড় ও শান্ত।

মশিউর রহমান নামের আরেকজন বলেন, আমরা দেখতি আসছি অনেক দূরে থেকে। দেখলাম, আসলেই খুব বড় গরু। আমি এতবড় গরু আগে দেখিনি।

ফ্রিজিয়ান শাহিওয়াল জাতের বাহুবলীকে জেলার সবচেয়ে বড় গরু উল্লেখ করে নড়াইলের প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা রাশেদুল হক বলেন, আমরা প্রত্যাশা করছি, খামারি ন্যায্যমূল্য পাবেন, যাতে ভবিষ্যতে তিনি আরও আগ্রহ বোধ করেন। খামারটিতে তিনি প্রাকৃতিক উপায়ে পশু লালন পালন করছেন বলেই জেনেছি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *